স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে অনীহা ৫ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের

0
49

স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপন করলেও কোর্স কার্যক্রম স্থানান্তরে অনিহা দেশের শীর্ষ পর্যায়ের পাঁচ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের। এছাড়া ১২ বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইন অমান্য করা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এছাড়া স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণসহ নানা ধরনের সমস্যা চিহ্নিত হওয়া ৩২ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে শোকজ দিতে যাচ্ছে ইউজিসি। আগামী সপ্তাহে শোকজ লেটার পাঠানো হবে বলে সূত্রে জানা গেছে।

স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে অগ্রগতি নিয়ে সর্বশেষ গত ২৫ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে উচ্চপর্যায়ে বৈঠক হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইনের সভাপত্বিতে বৈঠকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের অগ্রগতির প্রতিবেদন তুলে ধরে ইউজিসি।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পাঁচটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপন করলেও নানা সমস্যা দেখিয়ে সেখানে স্থানান্তরে অনীহা প্রকাশ করেছে।

এ তালিকায় ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি আশুলিয়া সাভারে, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সাতারকুল-বাড্ডায়, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি আশুলিয়ায়, লিডিং ইউনিভার্সিটি সিলেটে এবং মানারাত ইউনিভার্সিটি আশুলিয়ায় স্থায়ী ক্যাম্পাস রয়েছে।

এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে নামে মাত্র কয়েকটি কোর্স চালু করলেও অধিকাংশ কার্যক্রম রাজধানীর অস্থায়ী ক্যাম্পাসগুলোতেই চলে।

অনীহার কারণ জানতে চাইলে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইহসান মাহবুবুল হক জাগো নিউজকে বলেন, আশুলিয়ায় ১৬ তলা ভবনের মধ্যে ৮ তলার কাজ শেষ হয়েছে। সেখানে বিদ্যুতের সমস্যা রয়েছে। বর্তমানে পল্লী বিদ্যুৎ দিয়ে চালালেও তা পুরোপরি লোড নিতে পারছে না। বারবার লোডশেডিং হয়। এ কারণে সেখানে ক্লাস কার্যক্রম চালানো কষ্টকর। বিষয়টি ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধান হলেই পুরোপরিভাবে স্থায়ী ক্যাম্পসে চলে যাবো। তবে ৩৪টি কোর্সের মধ্যে ২১টি আশুলিয়া ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করা হয়েছে।

লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ৮০ শতাংশ কার্যক্রম স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর হয়েছে। বাকি ২০ শতাংশ আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে স্থানান্তর করা হবে। ভবন নির্মাণের কাজ শেষ না হওয়ায় স্থায়ী ক্যাম্পাসে পুরোপরিভাবে স্থানান্তরে বিলম্ব হচ্ছে।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, ৫১ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১৯টি স্থায়ী ক্যাম্পাসে ফিরেছে। বাকি ৩২টি মধ্যে ১২টি ন্যূনতম কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ওইসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করা হবে। তবে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের যেন সমস্যা না হয় সেটি খেয়াল রাখা হবে। তারা ভর্তি হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়েই লেখাপড়া করতে পারবে।

জানা গেছে, গত বছরের জানুয়ারিতে আল্টিমেটাম দেয়ার ৩৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র সাতটি স্থায়ী ক্যাম্পাসে ফিরেছে। বাকিদের কেউ জমি কিনেছে, কোনটি স্থায়ী ক্যাম্পাসে কেবল আংশিক কার্যক্রম শুরু করেছে। আবার এমন বিশ্ববিদ্যালয়ও আছে যারা স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার কথা বললেও ভাড়া বাড়িতে কার্যক্রম চালিয়েই যাচ্ছে।