ধনেপাতার অসাধারণ ভেষজ গুণাবলী

0
48

আমেরিকার সাম্প্রতিক এক গবেষণা জানিয়েছে, ধনেপাতার মধ্যে কোলেস্টেরল হ্রাসকারী উপাদান রয়েছে। দিনভর কম্পিউটারের পর্দায় চোখ থাকে যাদের, তাদের জন্য ধনেপাতার রস চাই।

বয়স্কদের জন্য তো বটেই। কাঁচা, চাটনি যেভাবেই খান না কেন ধনেপাতা জিংক, আয়রন, ম্যাংগানিজ, ম্যাগনেশিয়াম, বিভিন্ন ভিটামিন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম থাকে অনেকটা করে যতটা খুশি পেতে পারেন। বাড়তি ধনেপাতা শরীরের কোনো ক্ষতি করবে না, বর্জ্যপদার্থ হিসাবে শরীর থেকে বেরিয়ে যাবে।

ডায়াবেটিকদের জন্য ধনেপাতা খুবই উপকারী। অ্যান্টিডায়াবেটিক। সুগার নিয়ন্ত্রণ করে। জানিয়েছেন আয়ুবের্দিক চিকিৎসক হাইতালকুমার দোশালি।

কারিপাতা ও ধনেপাতা একসঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারলে আরো ভালো। কারিপাতার মধ্যে ডায়াবেটিস এবং ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধকরার উপাদান রয়েছে যা অনেক আগেই জানিয়েছিলেন লন্ডনের কিংস কলেজের গবেষকরা।

সেন্ট্রাল কাউন্সিল ফর রিচার্স ইন আয়ুর্বেদ অ্যান্ড সিদ্ধার তরফে জানানো হয়েছে, দৃষ্টিশক্তির অস্বচ্ছতা, দুর্বলতা কাটাতে ধনেপাতার রস উপকারী। দুই থেকে তিন টেবিল চামচ রসের সঙ্গে এক চা-চামচ বা দুই চা-চামচ মধু মিশিয়ে একবার করে খান। যাদের শরীরে ভিটামিন এ,বি ওয়ান, বি টু,সি এবং আয়রনের ঘাটতি তাদের এক চা-চামচ ধনেপাতার রস খুবই উপকারী।

যাদের শরীরে ভিটামিন এ বি ওয়ান, বি টু, সি এবং আয়রনের ঘাটতি, তাদের এক চা-চামচ ধনেপাতার রস এবং সমপরিমাণ মধু মিশিয়ে খেলেই চলবে। প্রতিদিন খেতে হবে।

হজমের সমস্যা, পেট ফোলাফাঁপার পাশাপাশি পেটে ব্যথা করে যাদের, বমি বমি ভাব আসে, বমি হয়-তাদের জন্যও এক-দুই চামচ ধনেপাতার রস দারুণ নিদান। মাইগ্রেনে এবং অন্যান্য মাথাব্যাথায় ধনেপাতার রসের প্রলেপ দিতে হয় কপালে। আরাম মেলে।

ধনেপাতা ত্বকের জন্যও ভালো। ধনে পাতা খান, রসের প্রলেপ দিন মুখে হাতে পায়ে। হাত পা জ্বালায়, জন্ডিসে মাথা ঝিমঝিম করা, অর্শে আমাশয়ের সময়, মুখ তেতো তেতো হয়ে গেলে, বেশি লালা ঝরার দিনগুলোতে, হেঁচকি কাটাতেও ধনেপাতার রস উপকারী।

ধনে পাতায় কোলেস্টেরল নেই। অনেকটা পটাশিয়াম। ১০০ গ্রাম থেকে ৫২১ মিলিগ্রাম। ধনেপাতায় সেলেনিয়ামও আছে। ভিটামিন সি ১৩৫ গ্রাম। ভিটামিন কে ৩১০মিলিগ্রাম। সোডিয়াম ৪৬ মিলিগ্রাম। জিংক ০.৫ মিলিগ্রাম।