মানব দেহে মধুর অবদান

0
53

স্বাস্থ্য রক্ষা ও রূপচর্চায় মধুর রয়েছে বিশেষ অবদান। নিয়মিত মধু গ্রহণ শরীরে অনেক পুষ্টি জোগায়। রক্তের হিমোগ্লোবিন গঠনে সহায়তা করে বলে এটি রক্তশূন্যতায় বেশ ফলদায়ক।

এতে আছে পর্যাপ্ত কপার, লৌহ ও ম্যাঙ্গানিজ। বলা হয়, ফুসফুসের যাবতীয় রোগে মধু উপকারী। এছাড়া নিয়মিত রূপচর্চার ক্ষেত্রে মধু অপরিহার্য উপাদান।

ত্বকের নানা সমস্যা, দাগ সারাতে কিংবা ব্রণের ক্ষত সারাতে অ্যান্টিবায়োটিকের মতো কাজ করে। এটি এমন অ্যান্টিবায়োটিক, যার কোনো ক্ষতিকর প্রভাব নেই।

মধু অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা ত্বকের রঙ ও ত্বক সুন্দর করে। ত্বকের ভাঁজ পড়া ও বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে। ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে, উজ্জ্বল আভা আনে ক্লান্ত ত্বকে।

বলিরেখাও দূর করে। উজ্জ্বল, সুন্দর ত্বক পেতে এক চামচ মধু খান প্রতিদিন। মুখের ত্বকে লাগান। ধীরে ধীরে বৃত্তাকারে ম্যাসাজ করুন।

এভাবে দুই সপ্তাহ দিনে দুবার সকাল আর রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ব্যবহার করুন। ত্বকে ব্ল্যাক হেডসের সমস্যার জন্য চালের গুঁড়োর সঙ্গে পরিমাণ মতো গোলাপজল ও ২-৩ ফোঁটা মধু মিশিয়ে ব্ল্যাক হেডসের ওপর লাগান।

কিছুক্ষণ পর কিছুটা ধীরে ঘষে ঘষে তুলে মুখ ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত এ প্রক্রিয়ায় কালো দাগ চলে যাবে।

যাদের ত্বকের বিভিন্ন অংশ যত্নের অভাবে কালচে হয়ে গেছে, তারা দুই চামচ পাকা পেঁপের শাঁস, এক চা চামচ তরমুজের রস, এক চা চামচ লেবুর রস, অর্ধেক ডিমের সাদা অংশ, এক চা চামচ মধু মিশিয়ে কালচে স্থানে লাগিয়ে দেখতে পারেন। সপ্তাহে তিনদিন করে দুই মাস ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

মধুর গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ ক্যালসিয়াম। ক্যালসিয়াম হাড়, চুলের গোড়া শক্ত রাখে, নখের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করে। সকালে ঘুম থেকে উঠে হালকা গরম পানিতে এক চামচ মধু গুলে খেলে ওজন বাড়বে না।

মধু পাকস্থলীর কাজকে জোরালো করে। এর ব্যবহার হাইড্রোক্রলিক এসিড ক্ষরণ কমিয়ে দেয় বলে অরুচি, বমিভাব, বুক জ্বালা এগুলো দূর করা সম্ভব হয়।

তবে আরেকটা কথা জানিয়ে রাখা ভালো। গবেষণায় দেখা গেছে, মধু সব রোগের মহৌষধ হলেও একটি কথা থেকেই যায়— ডায়াবেটিস রোগের জন্য মধু বিপজ্জনক।

কারণ এটি রক্তে সরাসরি শোষিত হয় বলে সহজেই দেহের রক্ত শর্করাকে উচ্চস্তরে নিয়ে আসবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।