মা নেপালে পৌঁছেই তোমাকে ফোন দেব

0
76

‘আলিফ নেপালে পৌঁছে মাকে ফোন দেয়ার কথা বলেছিল, সে জানিয়েছিল- ‘মা নেপালে পৌঁছেই তোমাকে ফোন দেব, কিন্তু সে আর ফোন দিতে পারেনি’ এটিই ছিল সোমবার সকাল সাড়ে ৭টায় যশোর থেকে বিমানে ঢাকায় যাওয়ার পথে মায়ের সঙ্গে তার শেষ কথা। নেপালের কাঠমান্ডুতে বিমান দুর্ঘটনার শিকার খুলনার আলিফুজ্জামান আলিফের (৩০) বাড়িতে মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে গেলে তার বড় ভাই মো. আশিকুর রহমান হামিম এসব কথা বলেন।

খুলনার রূপসা উপজেলার আইচগাতী গ্রামের আলিফ উজ্জামানের (৩২) বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। সোমবার সন্ধ্যা থেকেই তার বাড়িতে চলছে কান্নার রোল। মঙ্গলবার আলিফের আত্মীয়রা ঢাকা গেছেন। আলিফ আইচগাতি গ্রামের বারোপুন্যির মোড় এলাকার মোল্লা আসাদুজ্জামানের ছেলে। তিনি বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এবং বিএল কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছেন।

সোমবার রাতে আলিফের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, তিনতলা বাড়ির দ্বিতীয়তলায় বসবাস আলিফের পরিবারের। আত্মীয়স্বজনকে জড়িয়ে ধরে তার মা মনিকা পারভীন আহাজারি করছেন। বাড়ির বাইরে চেয়ারে বসে অঝোরে কাঁদছেন তার বাবা আসাদুজ্জামান এবং আলিফের বড় ও ছোট দুই ভাইসহ আত্মীয়স্বজনরা।

আলিফের বাবা জানান, সোমবার সকাল ৭টায় আলিফ বাড়ি থেকে যশোর যায়। পরে সেখান থেকে বিমানে ঢাকা যায়। এরপর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে করে নেপালে যায়। চার দিনের জন্য সে বেড়াতে গিয়েছিল। তিন ভাইয়ের মধ্যে সে মেঝো। আলিফের বড় ভাই আশিকুজ্জামান হামিম ও ছোট ভাই ইয়াসিন আরাফাত বলেন, তারা তাদের ভাইয়ের সঠিক কোনো তথ্যই এখনও পাননি। যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। এর বেশি কিছু বলতে পারেননি তারা।

আলিফের অপর আত্মীয় স্থানীয় আইচগাতি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী খান জুলু জানান, খবর পেয়ে আলিফদের বাড়িতে গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে শোক বিরাজ করছে। পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি।

আলিফের নিকটাত্মীয় মো. সাব্বির খান দ্বীপ জানান, আলিফ নেপাল ভ্রমণের জন্য সোমবার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়। সে যশোর থেকে প্রথম ফ্লাইটে বেসরকারি এয়ারওয়েজ নভো এয়ারে ঢাকায় যায়। সে দুপুর পৌনে ১টার দিকে ইউএস-বাংলার (ফ্লাইট বিএস ২১১) ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হয় নেপালের উদ্দেশে। সে বিমানের সর্বশেষ আসনে ছিল। নেপালের স্থানীয় সময় বেলা ২টা ২০ মিনিটে কাঠমান্ডুতে নামার সময় পাইলট নিয়ন্ত্রণ হারালে বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়।

এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে আলিফদের আইচগাতির বাড়িতে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীসহ উৎসুক জনতার ভিড় জমে গেছে। তার বাড়িতে এসে আলিফের খবর জানার চেষ্টা করছেন। তবে পরিবারের সদস্যরা অনেকটাই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও শোকাহত হয়ে পড়েছেন।