আমাকে কিছু না বলেই ‘ও’ চলে গেল

0
43

‘কী বলব, কিছু বলার নেই। আমি তো সব হারিয়ে ফেলেছি। আমাকে কিছু না বলেই ও চলে গেল। এমন করে চলে যাবে জানলে ওকে আমি যেতে দিতাম না। ও খুব দক্ষ একজন পাইলট।

ওর মতো মানুষ দুর্ঘটনার কবলে পড়বে- এটা ভাবা যায় না।’ কথাগুলো নেপালে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলা বিমানের ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানের স্ত্রী আফসানা খানম টপি’র। মঙ্গলবার দুপুরে উত্তরা-১৩ নম্বর সেক্টরের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের ভিড়।

১৬ বছরের ছেলে তানজিব বিন সুলতানের গলা জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন আফসানা। আবিদের ভাই খুরশিদ মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, ‘বিমান চালনায় আবিদ খুবই পারদর্শী। এই দুর্ঘটনা মানতে পারছি না। এখন একটাই চাওয়া, দুর্ঘটনায় নিহতদের লাশ দ্রুত দেশে এনে যেন স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়।

আমরা এখন তার লাশের জন্য অপেক্ষা করছি। এর চেয়ে বেদনার কী হতে পারে।’ স্ত্রী আফসানা ও ছেলে তানজিব বিন সুলতান মাহিকে নিয়ে আবিদ সুলতান উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের বাসায় থাকতেন। কাজ শেষ করে দ্রুত বাসায় ফিরতেন।

তার একমাত্র সন্তান তানজিব বিন সুলতান মাহি মাস্টারমাইন্ড স্কুল থেকে ‘ও’ লেভেল পরীক্ষা দেবে। আবিদের বাবাও পাইলট ছিলেন। আবিদরা ৫ ভাই বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। আবিদের গ্রামের বাড়ি নওগাঁ জেলার রানীনগরে। তার শ্বশুড়বাড়ি নাটোরে।

আবিদের ভাই খুরশিদ মাহমুদ জানান, বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর আবিদকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। আমরা আশায় বুক বেঁধেছিলাম আবিদ সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবে। ভোরে (মঙ্গলবার) খবর পেলাম আবিদ আর নেই।

এই খবর আমাদের জন্য খুবই বেদনার। সে শুধু দক্ষ পাইলটই ছিল না, পাইলটদের প্রশিক্ষকও ছিল। ইথিওপিয়ায় সে পাইলটদের প্রশিক্ষণ দিত।’ তিনি বলেন, ‘আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। যারা নিহত হয়েছেন তাদের পরিবারকে যেন প্রাপ্যটুকু দেয়া হয়।

তাদের শোকাহত মুহূর্তগুলোকে যেন তাচ্ছিল্য করা না হয়।’ পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ৬টায় আবিদ বাসা থেকে বের হন। দুপুরের মধ্যে দুটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করেন তিনি। এরপর দুপুরে তাকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়।

দুটি ফ্লাইট পরিচালনার পর তিনি আর আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করতে চাননি। জোর করে তাকে ফ্লাইট পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়। মঙ্গলবার দুপুরের পর আবিদের বাসায় ইউএস বাংলার পক্ষ থেকে একজন গানম্যান বসানো হয়েছে। ওই গানম্যান কাউকে ভেতরে যেতে দিচ্ছেন না।

আবিদের একজন আত্মীয় নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, বাসায় এখন ইউএস বাংলার ১৫ থেকে ২০ জন লোক অবস্থান করছেন। গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথা না বলার জন্য তারা পরিবারকে ব্যাপক চাপ দিচ্ছেন।