আজও বিক্ষোভে ফুঁসছে ক্যাম্পাস

0
44

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলা বিক্ষোভ বুধবার (১১ এপ্রিল) চতুর্থ দিনের মত চলছে। মঙ্গলবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি আন্দোলন স্থগিত করার পর বুধবার সকাল ৮টার পর থেকেই ঢাবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি থেকে আবারো আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।

ঢাবির মত সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় নগরীর ষোলশহর রেলস্টেশন অবরোধ করে এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ ক্যাম্পাসে আন্দোলনে যোগ দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ঢাবিসহ সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি পালন করবে আন্দোলনকারীরা।

মঙ্গলবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার পর রাজু ভাস্কর্যের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে কমিটির নেতারা বলেন, সোমবার মন্ত্রীর আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করলেও আজ (মঙ্গলবার) কৃষিমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের পর আবারও আন্দোলন শুরু করলাম। প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট আশ্বাস ছাড়া আমরা রাজপথ ছাড়ব না।

অবিলম্বে আহত শিক্ষার্থীরদের চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ ও আটককৃতদের ছেড়ে দেয়ার দাবি জানান তারা।

এর আগে বিকেল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসির রাজু ভাস্কর্য অভিমুখে বিভিন্ন দিক থেকে মিছিল এসে জড়ো হতে থাকে। শহীদ মিনার, ফুলার রোড, ভিসি চত্বর, ভিসি অফিসের সামনে দিয়ে সূর্যসেন হল, বিজনেস ফ্যাকাল্টি, কলা ভবন হয়ে টিএসসিতে বেশ কয়েকটি মিছিল জড়ো হয়।

সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে প্রতিবাদ সমাবেশে তাদের স্লোগানে কেঁপে উঠছে টিএসসি। সেখানে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর কুশপুত্তলিকা হাতে নিয়ে বিক্ষোভ করছেন আন্দোলনকারীরা। কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে নানান স্লোগানে দিচ্ছেন তারা।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর বক্তব্যের প্রতিবাদে তারা ফের এই সমন্বিত আন্দোলনে নেমেছেন। তবে বিকেল ৫টার মধ্যে কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে অন্যথায় বিকেল ৫টার পর তারা ফের আন্দোলনে যাবেন বলে সকালেই ঘোষণা দিয়েছিলেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা।

সোমবার জাতীয় সংসদে কৃষিমন্ত্রী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলায় এবং মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী ‘বাজেটের আগে কোটা সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া সম্ভব নয়’- এমন ঘোষণা দেয়ায় ফের উত্তেজিত হয়ে পড়েন কোটা সংস্কারের আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা। এরপর তারা বিভক্তি ভুলে এক হয়ে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা থেকে আবার আন্দোলনে নামেন।