এক চুমুতে ৮ কোটি ব্যাকটেরিয়া

0
81

আপনি জানেন কি ঠোঁটের সঙ্গে ঠোঁটে যে চুম্বন দেওয়া হয়, তাতে আমাদের দেহে কি প্রবেশ করে?

আমাদের অনেকের কাছেই চুমু ভালোবাসার অন্যতম প্রকাশ হিসেবে গণ্য। সে চুমু হতে পারে মুখাবয়বের যেকোনো জায়গায়। কিন্তু অন্তরঙ্গের সময় সে চুমুর আদান-প্রদান যায় বদলে। সে চুমু হয় ঠোঁটের সঙ্গে ঠোঁটের আলিঙ্গন। সে আলিঙ্গনও আবার কারো কাছে হয় দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর। কিন্তু আপনি জানেন কি ঠোঁটের সঙ্গে ঠোঁটে যে চুম্বন দেওয়া হয়, তাতে আমাদের দেহে কি প্রবেশ করে?

এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঠোঁটে ঠোঁটে যে চুমুর আদান-প্রদান হয়, তার মধ্যে দিয়ে ব্যাকটেরিয়ারও আদান-প্রদান হয়। কি চমকে গেলেন? নতুন এক গবেষণা কিন্তু তা-ই বলছে।

গবেষণাটিতে উঠে এসেছে, মাত্র ১০ সেকেন্ডের একটি গভীর চুমুতে আট কোটি ব্যাকটেরিয়া একজনের লালার সঙ্গে অন্যজনের মুখে প্রবেশ করে। তার মানে, যারা প্রতিদিন এভাবে গভীর চুম্বনে আবদ্ধ হন, তারা বহন করেন অসংখ্য মাইক্রো-ব্যাকটেরিয়া। যদিও এ ব্যাকটেরিয়াটি দেহের জন্য ক্ষতিকর নয়।

নেদারল্যান্ডের অরগানাইগেশন ফর অ্যাপলায়েড সায়েন্টিফিক রিসার্চের গবেষক রেমকো কোর্ট ডাচ গবেষকদের সঙ্গে আমস্টারডামে আর্টিস রয়াল চিড়িয়া পরিদর্শন করার সময় ২১ জন যুগলের ওপর একটি পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। যারা প্রতিদিন পাঁচ থেকে ১০ বার দীর্ঘ চুম্বনে আবদ্ধ হন। কেউ কেউ আবার দিনে ৫০ বারও দীর্ঘ চুমুতে আবদ্ধ হন। এরা প্রত্যেকেই তাদের পার্টনারের সঙ্গে এভাবেই আবদ্ধ হতে ভালোবাসেন বলে জানান।

প্রাথমিকভাবে চুমু খাওয়ার সময় তাদের আচরণ, কত ঘন ঘন তারা চুমু খান এই সব প্রশ্নসহ একটি তালিকা পূরণ করতে দেওয়া হয়েছিল ওই ৪২ জনকে। এরপর প্রতি যুগলের যেকোনো একজনকে বেছে নিয়ে বিশেষ একধরনের ব্যাকটেরিয়া ভর্তি প্রোবায়োটিক পানীয় পান করতে দেওয়া হয়েছিল। এরপর তাদের সঙ্গী বা সঙ্গিনীকে দীর্ঘ চুমু খেতে বলা হয়।

একবারের দীর্ঘ চুমুর পর দেখা গেছে, যিনি ওই পানীয় পান করেননি, তার মুখের লালার মধ্যে প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার (ক্ষতিকারক নয় এমন ব্যাকটেরিয়া) সংখ্যা তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। হিসাব করে দেখা গেছে মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যে একজনের মুখ থেকে অন্যজনের মুখে কমবেশি আট কোটি ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করেছে।

কোর্ট জানিয়েছেন, তাদের এই পরীক্ষা শেষে দেখা গেছে, যে যুগল যত ঘন ঘন দীর্ঘ চুমু খান তাদের লালার মাইক্রোবায়োটা (ব্যাকটেরিয়া বসতি) একই রকম হয়। গড়ে দিনে অন্তত ৯ বার চুমু খেলে মুখের মাইক্রোবায়োটা একই রকম হয়ে যায়।

উল্লেখ্য, মানুষের শরীরে গড়ে ১০০ ট্রিলিয়ন উপকারী মাইক্রো-অরগানিজম থাকে। এই মাইক্রো-অরগানিজম খাবারের পচন, পুষ্টি সংশ্লেষ ও রোগ-প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। আর আমাদের মুখের মধ্যে কমবেশি ৭০০ ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে।

সূত্র: লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস