আমাদের এরকম আরো শিক্ষক দরকার !

0
168

২০১৫ সালের ১ই এপ্রিল মনে আছে সেইদিনের একটি খবরের কথা ? মনে থাকার কথাও নয়। পত্রিকার শিরোনাম ছিল এরকম “প্রিয় স্যারের বদলির খবরে অজ্ঞান ১৬ শিক্ষার্থী”।

নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার বাঁশবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পাঁচ বছর ধরে কর্মরত ছিলেন আলহাজ্ব মো. মতিনুল হক। তারই বদলির খবরে আবেগে জ্ঞান হারালো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৬ শিক্ষার্থী।

এরকমটা হয়েছিল এবছরও স্কুলের রাজত্ব শিক্ষার্থীদের কাছেই। তাদের আগমনেই ক্যাম্পাস জেগে ওঠে। আর তারা যখন চলে যায়, তখন ক্যাম্পাসজুড়ে নেমে আসে মৃত্যুপুরীর ছায়া!

রংপুরের দি মিলেনিয়াম স্টারস স্কুল অ্যান্ড কলেজ যোগদানের পর থেকে এমনটাই ভাবতেন কলেজটির অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ নাজমুর রহমান।

আর এই বিশ্বাস থেকে শিক্ষার্থীদের থেকে প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি। সম্প্রতি তার বদলির আদেশ আসার পর শ্রেণিকক্ষে কান্নার রোল ওঠে। তিনি চলে গেলে স্কুলে না আসারও ‘হুমকি’ দেয় শিক্ষার্থীরা।

তবে শিক্ষার্থী-সহকর্মীদের ভালোবাসায় তাকে স্কুলটি ছেড়ে যেতে হয়নি। গেল সোমবার (১৪ মে) নাজমুর রহমানকে ওই স্কুলেরই অধ্যক্ষ হিসেবে রেখে দেওয়ার খবর জানা যায়। এতে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মধ্যে বয়ে যায় আনন্দের জোয়ার।

এবার আরেক শিক্ষকের কথা বলবো যদিও এই শিক্ষক আমাদের দেশের নন তবুও সংবাদটি আমাদের উৎসহিত করবে বলেই মনে করছি।

ভারতের তামিলনাড়র জি ভগওয়ান তিরুভাল্লুর একটি সরকারি স্কুলের ইংরেজির শিক্ষক। সম্প্রতি তাঁর বদলির আদেশ দেওয়া হয়। স্কুলে শেষ দিনে প্রিয় শিক্ষককে ঘিরে পড়ুয়াদের আবেগের বিস্ফোরণ। জড়িয়ে, পায়ে ধরে স্কুল ছেড়ে না যাওয়ার আর্তি পড়ুয়াদের। তাদের ভালোবাসায় কেঁদে ভাসালেন ভগওয়ানও।

আসলে ভাগওয়ানের পড়ানোর পদ্ধতি অনেকটাই অভিনব। তিনি জানিয়েছেন, শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্য়েই সীমাবদ্ধ থাকেন না তিনি। পড়ুয়াদের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। ভাগওয়ান বলেছেন, তিনি শুধু একজন শিক্ষকই নন,পড়ুয়াদের বন্ধু, দাদা।

এই আবেগবিহ্বল ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই ঘটনার পর ওই শিক্ষককে আর বদলি করা হবে না।

স্কুল প্রশাসনও ভগওয়ানের বদলি আপাতত স্থগিত রেখেছে।

তাই আমরা বলতেই পারি এমন আরো শিক্ষক দরকার। যারা বদলাবে সমাজ বদলাবে শিক্ষার মান। বদলাবে ভালবাসার গল্প।