নারীদের জন্যও রয়েছে কনডম (শুধুমাত্র নারীরা পড়বেন) ব্যবহারের নিয়ম

0
1621

ফিমেল কনডম বা মেয়েদের কনডম সম্পর্কে আমাদের দেশের সিংহভাগ মানুষই অজ্ঞ। তারা জানেনই না যে মেয়েদেরও কনডম আছে! তাই মেয়েদের কনডমের পরিচয় এবং সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

কিছু স্পর্শকাতর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে আর্টিকেলটিতে। অনুগ্রহ করে যাদের এসব বিষয়ে বিরক্তি রয়েছে তাদের বেরিয়ে যেতে অনুরোধ করা হলো। যদিও বিষয়টি নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

মেয়েদের কনডম ইংরেজি (Female Condom) প্রধানত যৌনসঙ্গমকালে ব্যবহৃত এক প্রকার জন্মনিরোধক বস্তু। এটি আবিস্কার করেন ল্যাস্সি হেসেল। মহিলাদের এই কনডম পাতলা, ঢিলা, নমনীয় আবরন এবং এর দুই প্রান্তে দুটি রিং বিদ্যমান।

এটি আলার্জি নিরোধী এবং যাদের রাবার ল্যাটেক্স ব্যবহারে সংক্রমনের সম্ভাবনা রয়েছে তাদের জন্য উপযোগী। ফিমেল কনডম মূলত গর্ভাধারন ও গনোরিয়া, সিফিলিজ ও এইচআইভি-এর মতো যৌনরোগের প্রতিরোধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

যৌনসঙ্গমকালে এটি মেয়েদের যৌনাংগে ব্যাবহার করা হয় এবং এসময় এটি পুরুষের বীর্যকে স্ত্রী যোনিতে প্রবেশে বাধা দেয় ফলে পুরুষের বীর্যের শুক্রাণুসমূহ মহিলার ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করতে পারে না।

মহিলাদের কনডম ব্যবহারের সূবিধাসমূহ:

মহিলাদের কনডম ব্যবহারের মাধ্যমে নারীরা তাদের যৌনসাস্থ্যকে নিজ নিজ পছন্দের ও ইচ্ছানুযায়ি নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারেন।এই কনডম ব্যবহারের মাধ্যমে নারী সংগীটি নিজেকে গর্ভধারন থেকে রক্ষা করতে পারে, যখন পুরুষ সংগীটি পুরুষের কনডম ব্যবহারে অনিচ্ছুক থাকে।

এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে নারী সংগীর এই ধরনের কনডমের ব্যবহার পুরুষ সংগীকে সাধারন কনডমের তুলনায় অধিক পুলকিত করতে সক্ষম হয়। এটি আলার্জি নিরোধী এবং যাদের রাবার ল্যাটেক্স ব্যবহারে সংক্রমনের সম্ভাবনা রয়েছে তাদের জন্য উপযোগী। এই কনডম সংগমের বহু সময় পূর্বেই পরিধান করা যায়।

পুরুষদের কনডমের ন্যায় এটি পুরুষাংগের উত্থানের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না বা বীর্যস্থলনের সাথে সাথে বের করে নেয়ার প্রয়োজন পড়ে না। এটি আঁটসাঁট নয় এবং শরীরের তাপমাত্রার সাথে সাথে এর উপাদানের তাপমাত্রা পরিবর্তিত হয়।এছাড়া এটি সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায় এমন যৌনরোগ থেকে সুরক্ষা দেয় বলে অনেক গবেষনায় দেখা গেছে।

মহিলাদের কনডম বিশ্বব্যাপী ব্যবহার:

উন্নত দেশসমূহে এই কনডমের বিক্রি আশানুরুপ না হলেও উন্নয়্নশীল দেশসমূহে জন্মনিয়ন্ত্রন প্রকল্প এবং এইডস প্রতিরোধ প্রকল্পের আওতায় এটির ব্যবহার ক্রমবর্ধমান। এই কনডম পরিধানের ক্ষেত্রে বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হয় এবং পুরুষের কনডমের তুলনায় এর ২-৩ গুণ বেশি মূল্যকে এর বিক্রি হ্রাসের কারন হিসেবে মনে করা হয়।

অনেক ব্যবহারকারী উল্লেখ করেছেন যে এই কনডম পরে সংগমকালে বাজে শব্দের সৃষ্টি হয় এবং এসময় কনডমের একটি রিং যোনীর বাইরে বের হওয়া অবস্থায় থাকে। এসব পরিস্থিতির কারনে অনেকে এই কনডম ব্যবহার ত্যাগ করেছেন বলে অনেক ব্যবহারকারী অভিযোগ করেন।

ব্যবহারের অজ্ঞতার জন্যে আমাদের দেশে এর তেমন একটা ব্যবহার নেই। কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলোতে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের কনডমের চাহিদা বেশি। কারণ মেয়েদের কনডম ব্যবহারে তুলনামূলকভাবে যৌনমিলনে বেশি আনন্দ পাওয়া যায়।

ফিমেল কনডম ব্যবহারের নিয়ম:

এর নীচের দিকে যে রাবারটি দেখতে পাচ্ছেন তা থাকে যোনীর ভেতর। আর চিকন বড় ফাঁকের যে রাবারটি আছে তা যোনীমুখের বাইরে আটকে থাকে।

নীচের মোটা রাবারটিকে প্রথমে বুড়ো আঙ্গুল এবং তর্জনী ব্যবহারে পেন্সিলের মতো করে ধরে যোনীমুখে সামান্য ঢুকিয়ে এরপর বাইরের বড় ফাঁকের রাবারটির ভিতর দিয়ে আঙ্গুল দিয়ে আস্তে আস্তে চাপ দিয়ে পুরো কনডমটিকে যোনীর ভেতর ঢুকিয়ে দিন। দেখবেন বাইরের রাবারটি যোনীমুখের চারপাশে আটকে আছে। তা ভেতরে ঢুকে নিজে থেকেই প্রসারিত হবে।

এবার যৌনমিলন উপভোগ করুন। মিলন শেষে সাবধানে কনডমটি বের করে আনুন।

ব্যাবহার শেষে খুলে ফেলার নিয়ম:

একটা কনডম একবারের বেশি ব্যাবহার করবেন না।

কনডম ব্যাবহার করার পর dustbin এ ফেলে দিবেন। বাথরুমে flush করে কনডম ফেলবেন না।