সরকার গঠনে জোট বাধতে হচ্ছে ইমরান খানকে

0
93

পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফ পিটিআইকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। মুসলিম লিগ ও পিপলস পার্টি একে, পাতানো নির্বাচন আখ্যা দিয়ে, ফল প্রত্যাখ্যান করলেও এ অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছে কমিশন।

নির্বাচনে পিটিআই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় দলটিকে জোট সরকার গঠন করতে হচ্ছে। তবে, ইমরান খান কাকে সরকারের অংশীদার করবেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।

পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের ৪২ ঘণ্টা পর শুক্রবার (২৭ জুলাই) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করে দেশটির নির্বাচন কমিশন। ইমরান খানের তেহরি-ই-ইনসাফ পিটিআইকে বিজয়ী ঘোষণা করা হলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় সরকার গঠনে অন্য দলের সঙ্গে জোট গড়তে হবে বলে জানায় কমিশন।

এর আগে, বৃহস্পতিবার এক ভাষণে নিজের দলকে সমর্থন দেয়ায় পাকিস্তানিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইমরান খান। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর দেশ পরিচালনায় নানা পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।

ইমরান খান বলেন, ‘আমরা দুর্নীতিমুক্ত নতুন পাকিস্তান গড়তে চাই। আমার শাসনামলে রাজনৈতিকভাবে বিরোধী পক্ষের কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। নির্বাচনে যে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে, প্রয়োজনে সেটারও সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে।

শক্তিশালী অর্থনীতি নিশ্চিত করতে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করবো আমরা। এছাড়া ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তারা এক কদম আগে বাড়লে আমরা দুই কদম বাড়াবো। কাশ্মীর নিয়ে নতুন করে দেশটির সরকারের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসার পরিকল্পনা আছে।’

নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় কমিশনের বিরুদ্ধে পাতানো নির্বাচনের অভিযোগ তুলে একে ‘প্রহসন’ বলে আখ্যা দিয়েছে পাকিস্তান পিপলস পার্টি ও মুসলিম লিগ-এন।

পাকিস্তান মুসলিম লিগ প্রধান শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘জোরপূর্বক নির্বাচনের জয় পরাজয় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সাধারণ পাকিস্তানিদের অধিকার হরণ করা হয়েছে। এমন আচরণ জনগণ মেনে নেবে না।’

নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝেও দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কোথাও কোথাও ইমরানকে ভোট কারচুপির নেতা আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভও হয়েছে।

এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা মনে করি, নির্বাচন কমিশন এক তরফা ভোট আয়োজন করেছে। এতে মদদ দিয়েছে এখন যারা নির্বাচনকালীন দায়িত্বে আছেন তারা। এবারের নির্বাচন পুরোপুরি বিতর্কিত নির্বাচন।’

অনেকেই পুরো ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার আগেই নিজের ভাষণ দিয়েছেন। ইমরানও তাই করেছেন। এটা দোষের কিছু না।নির্বাচন নিয়ে দেশজুড়ে নানা বিতর্ক ও সমলোচনা চললেও, সব অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে নির্বাচন কমিশন।